শীতের তীব্রতায় নাকাল হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরের জনজীবন। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জেলায় তাপমাত্রার পারদ নেমেছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। এমন শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। তবে কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও মৃদু বাতাস উপেক্ষা করে জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয়েছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের।
গত চারদিন দিনে এ জেলায় সূর্য দেখা মিলেনি। তাপমাত্রা ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছিলো। হঠাৎ আজ সকালে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে। হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে চলছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। এতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জনজীবনে।
চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা রয়েছে ৯৫%।
মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় পড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে বেড়েছ শীতের তীব্রতা। ফলে আজ ভোর থেকে ঘন কুয়াশার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন।
সকালে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষগুলো শীত নিবারনে আগুনের উষ্ণতা নিচ্ছেন। সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে। অন্যদিকে বাড়তি শীতের পোশাক নিয়ে চলাফেরা করছেন শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষেরা। ফসলে মাঠে ঠিকমত যেতে পারছেনা কৃষক।
আনন্দবাস গ্রামের কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘শীতের কারণে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। মাঠে কাজ করা তো দূরে থাক। এরকম শীত আরও দু-এক দিন থাকলে আমাদের দুরবস্থা তৈরি হবে।’
বামন্দী বাজারের অটোরিকশাচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে বাইরে বের হয়েছি। কনকনে শীতের কারণে মানুষ বের হচ্ছে না। সেজন্য আমাদের ভাড়া কমে গেছে।’
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির জানান, মেহেরপুর জেলায় বিগত কয়েকদিনে অসহনীয় শীত শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতার্তদের মধ্যে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
ইখা