কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে বিস্তীর্ণ মাঠ। সরিষার আবাদকে ঘিরে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও মধু সংগ্রহকারীরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ বছর প্রত্যাশামতো মধু পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলার আগানগর ও শিমুলকান্দি ইউনিয়নের সরিষার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, জমির পাশে বসানো হয়েছে শত শত মৌমাছির বাক্স। মৌমাছিরা সরিষার ফুলে বসে মধু আহরণ করে বাক্সের ট্রেতে জমা করছে। পরে দু–একদিন পরপর ট্রেগুলো বিশেষ যন্ত্রে ঘুরিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এই মধু প্রতি কেজি ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মধু দেশের বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভৈরবের আগানগর ও শিমুলকান্দিসহ সাতটি ইউনিয়নে ২ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৫০ হেক্টর। সরিষার তেলের চাহিদা বৃদ্ধি, দাম ভালো পাওয়া এবং খৈল মাছের খাবার ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে ভৈরবে সরিষার আবাদ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
সরিষার আবাদ বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এবার ৪৭০টি মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এতে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার ফলন প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—এই তিন মাস মধু সংগ্রহের প্রধান সময়।
স্থানীয় কৃষক মো. আব্দুল হাসিম, মো. সিরাজ মিয়া ও ইসলাম মিয়া জানান, জমিতে কোনো রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। মৌমাছির বাক্স বসানোর ফলে সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। ভবিষ্যতেও মধু সংগ্রহকারীরা যেন আসেন, সেটাই তাদের প্রত্যাশা।
মধু কিনতে আসা ক্রেতা সালাউদ্দিন, শাহ আলম ও সেলিম মিয়া জানান, ভেজালমুক্ত হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে তারা এই মধু কিনতে আসছেন।
মধু সংগ্রহকারী আরিফুল ইসলাম, আব্দুল আলিম ও সুরত আলী বলেন, “যেখানে ফুল, সেখানেই আমরা মধু আহরণে ছুটে যাই। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় চাহিদামতো মধু পাওয়া যায়নি। এতে লাভের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ–সুবিধা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে মধু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। আগামী মৌসুমে আবাদ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইখা