নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য সালেহ আহমেদ (৬০) ও প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নয়ন (৪০) নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার(১৬ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত সালেহ আহমেদ আলিয়ারা গ্রামের মৃত সালামত উল্লাহর ছেলে ও স্থানীয়ভাবে সাবেক মেম্বার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অপর নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়ন একই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে এবং তিনি ব্রুনাই প্রবাসী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সে সময় কয়েক দফা সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন এবং প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বারকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপের লোকজন এলাকা ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছিলেন।
এ বছরের ৩ জানুয়ারি সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ পুনরায় এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দেয় এবং নানাভাবে হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে নতুন করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের বড় বোন হাজেরা আক্তার রিংকি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাড়িঘর আগেই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমরা বাড়িতে গিয়ে তাবু টাঙ্গিয়ে বসবাস শুরু করি। শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে রাজিমের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক সন্ত্রাসী একযোগে হামলা চালায়। এতে আমার ভাই নয়ন ও চাচা সালেহ আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সৈয়দা ফারহানা ইসলাম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, গুলিবিদ্ধ করার পাশাপাশি রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আলিয়ারা গ্রাম প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
এনআই