মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য গড়ে তোলা কুখ্যাত মিং মাফিয়া পরিবারের ১১ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে চীন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানায়, এসব মৃত্যুদণ্ড সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি আদালত গত সেপ্টেম্বর মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক, অনলাইন জালিয়াতি, জুয়া ব্যবসা পরিচালনাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালতের রায় অনুসারে, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাদের অপরাধচক্রের মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি (প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার) অবৈধ আয় হয়েছিল।
মিং পরিবার ছিল মিয়ানমারের শান প্রদেশের সীমান্ত শহর লাউক্কাইংয়ের অন্যতম ক্ষমতাধর গোষ্ঠী। এক সময় দরিদ্র এই শহরটিকে তারা রূপ দেয় ক্যাসিনো, অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার ও রেড-লাইট এলাকার কেন্দ্রে।
পরবর্তীতে জুয়া ও পতিতাবৃত্তির পাশাপাশি তারা শুরু করে অনলাইন প্রতারণা, যেখানে হাজার হাজার মানুষকে পাচার করে জোরপূর্বক কাজ করানো হতো। মুক্তিপ্রাপ্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্ক্যাম সেন্টারে নির্যাতন, মারধর ও টর্চার ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
২০২৩ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানো একটি জাতিগত বিদ্রোহী জোট লাউক্কাইং দখল করলে মিং পরিবারের ক্ষমতার অবসান ঘটে। পরে তাদের সদস্যদের আটক করে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চীনের সর্বোচ্চ আদালত জানায়, মিং পরিবারের অপরাধে ১৪ জন চীনা নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। পরিবারের প্রধান মিং শুয়েচাং ২০২৩ সালে গ্রেফতার এড়াতে আত্মহত্যা করেন বলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দাবি করেছিল।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, মিং পরিবারের সদস্যরাই শেষ নয়। ইতোমধ্যে বাই পরিবারের পাঁচ সদস্যকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর ওয়েই ও লিউ পরিবারের সদস্যদের বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অনলাইন প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। স্ক্যাম সেন্টারগুলো এখন ধীরে ধীরে থাইল্যান্ড সীমান্ত, কম্বোডিয়া ও লাওসে সরে যাচ্ছে—যেসব এলাকায় চীনের প্রভাব তুলনামূলক কম।
এমআর-২