এইমাত্র
  • নবম পে-স্কেলের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির পথে সরকারি চাকরিজীবীরা
  • টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
  • জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার পর ঝিনাইগাতীতে ইউএনও–ওসি প্রত্যাহার
  • ইরানি বিপ্লবী গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত’ করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
  • জব্দ করা একটি ট্যাংকার জাহাজ ভেনেজুয়েলাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
  • বঙ্গোপসাগরে যৌথ সামরিক মহড়া করছে ভারত-রাশিয়া
  • চতুর্থবারের মতো পেছালো হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ
  • সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা
  • ময়মনসিংহে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের
  • ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক’ অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি
  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ মাঘ, ১৪৩২ | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    জীবননগরের অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলো যেন একেকটি ‘ভোট ক্যাম্প’

    সালাউদ্দীন কাজল, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
    সালাউদ্দীন কাজল, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

    জীবননগরের অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলো যেন একেকটি ‘ভোট ক্যাম্প’

    সালাউদ্দীন কাজল, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২০ পিএম

    সকাল কিংবা সন্ধ্যা—জেলা ও উপজেলা শহরের অলি-গলিতে পা রাখলে এখন দেখা মেলে একই চিত্র। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে জমজমাট নির্বাচনী আলোচনা। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে হবেন তাদের আগামীর কাণ্ডারি। তবে ভোটারদের দাবি, এবার তারা তাদেরকেই নির্বাচিত করবেন, যারা বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন।

    প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই চলছে মিছিল-মিটিং। ক্যালেন্ডারের পাতায় উল্টোভাবে চলছে দিনক্ষণ গণনা। আর মাত্র ১৪ দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই নির্বাচনী উৎসবের আমেজে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উৎসবের মাত্রা ও উত্তেজনা।

    শহর থেকে গ্রাম—অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন হয়ে উঠেছে একেকটি ‘ভোট ক্যাম্প’। গভীর রাত পর্যন্ত এসব দোকানে চলছে ভোট উৎসবের চুলচেরা বিশ্লেষণ। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামীণ চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ার পাশাপাশি দোকানিরাও বাড়িয়েছেন কেটলি ও কাপের সংখ্যা। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় দোকানিরা।

    সারাদিন আলোচনা চলছে—কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কার জনপ্রিয়তা বেশি কিংবা অতীতে কার ভূমিকা কেমন ছিল। এবারের নির্বাচনের বিশেষ আকর্ষণ হলো অবাধ ও মুক্ত পরিবেশ। একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে জনমনে কৌতূহলও বেশি।

    দীর্ঘ দেড় যুগ পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে এমন উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। হাটবাজার, চায়ের দোকান কিংবা সড়কের মোড়—যেখানে মানুষের আনাগোনা, সেখানেই ভোটের আলোচনা। ভোটাররা এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন কোন আসনে কোন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা ঘরোয়া বৈঠক ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সর্বস্তরের ভোটাররা কোনো প্রকার বাধাহীনভাবে ভোট দিতে পারবেন—এমন প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত।

    জীবননগর উপজেলার রায়পুর বাজার, হাসাদাহ বাজার ও মাধবপুর বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি চায়ের দোকানই এখন ‘পলিটিক্যাল ডেস্কে’ পরিণত হয়েছে। শীতের আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ। রায়পুর বাজারের এক চা দোকানি জানান, আগে দিনে যেখানে ২ কেটলি চা বিক্রি হতো, এখন সেখানে ১০ কেটলি চা বিক্রি হচ্ছে।

    মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, “পুরো দেশেই এখন ভোট আর রাজনৈতিক আলোচনা। আমাদের দেশের মানুষ রাজনীতি বিষয়ে খুবই আগ্রহী। আমরা চাই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ।” বেনীপুর বাজারের চা দোকানি মাজেদুর বলেন, “নির্বাচনী ভিড় সামলাতে ৪টি নতুন কেটলি ও ১০০ পিস নতুন কাপ কিনেছি।”

    আবিদ আলী নামের এক যুবক বলেন, “ভোটের মাঠে এবার খেলা জমবে। আগের মতো কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। আমরা সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়ায় সাধারণ মানুষ আবার ভোটমুখী হয়েছে।

    উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট স্থায়ী ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৪টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।

    এনআই

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…