কবরের মাটি যেন ভালভাবে জমে যায় এ উদ্দেশ্যে দাফনের পর নতুন কবরের ওপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। বরং অনেকে বলেছেন নতুন কবরে এ উদ্দেশ্যে পানি ছিটিয়ে দেওয়া মুস্তাহাব। যেন মাটিগুলো জমে যায় ও সহজে মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়, ফলে মানুষ তার অবমাননা থেকে মুক্ত থাকবে।
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার ছেলে ইবরাহিমকে সমাহিত করার পর তার কবরে পানি ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। (ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/৬১৪১; মিশকাত হা/১৭০৮; ছহীহাহ হা/৩০৪৫; ইবনু কুদামা, মুগনী ২/৩৭৬)। তবে পানি ছিটানোর মাধ্যমে মাইয়েত প্রশান্তি পাবে, তার কল্যাণ হবে এরূপ ধারণার কোন ভিত্তি নেই (উছায়মীন, তা‘লীক ‘আলাল কাফী ২/৩৮৯)।
কবরে পানি ছিটানোকে যদি ভক্তি প্রকাশের অংশ ও নিয়মিত চর্চা বানিয়ে নেওয়া হয় অথবা যদি বিশ্বাস করা হয় কবরে পানি ছিটালে মৃত ব্যক্তির কোনো উপকার হবে, তাহলে এটা বিদআত গণ্য হবে।
ইসলামের উৎস হলো কোরআন ও রাসুলের সুন্নত অর্থাৎ তার কথা, কাজ ও সমর্থন। কোরআন ও রাসুলের সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে আমলের নতুন কোনো ধরন উদ্ভাবন করে তাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ মনে করলে তা হয় দীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবন বা বিদআত। রাসুল (সা.) তার উম্মতকে দীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বা বিদআত থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন।
রাসুল (সা.) বলেন, সব নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, সব নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত আর সব বিদআতই পথভ্রষ্টতা। (সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে আহমদ)
মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়ার পর তার জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত, দান-সদকা, কোরআন তেলাওয়াত বা অন্যান্য আমল করে তার জন্য সওয়াব পাঠানো উচিত যেভাবে ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে।
এইচএ