লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে তীব্র শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। ঠিক সেই সময়ে দুস্থ ও অসহায় ভাসমান জেলেদের পাশে দাঁড়ালেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার।
গতকাল ৫ জানুয়ারি, সোমবার মধ্যরাতে রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পুরান বেরীর চান্দার খালসংলগ্ন মেঘনা নদী এলাকায় নৌকায় ভাসমান প্রায় ৪০টি অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, রায়পুর উপজেলার চান্দার খালের এই এলাকাটি মূলত মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত একটি নৌকাভিত্তিক জনপদ। এখানকার অনেক পরিবার বছরের পর বছর ধরে নৌকায় বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে, যা প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাস বহন করে। কেউ কেউ নদীতে মাছ ধরে, কেউ নৌকা চালিয়ে কিংবা দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
স্থায়ী ঘরবাড়ি না থাকায় শীত মৌসুমে এসব পরিবারকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় খোলা আকাশের নিচে কিংবা নৌকার ভেতরে শীত নিবারণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গভীর রাতেই সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার। নৌকায় করে একে একে ভাসমান পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে তিনি নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী মিস সাথী আক্তার এবং তাঁদের সন্তান। পরিবারসহ এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণে স্থানীয়রা ব্যাপক প্রশংসা ও দোয়া করেন।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভাসমান মানুষজন। ১৪ বছর বয়সী রায়হান বলেন, “সারারাত খুব ঠান্ডা লাগে। গায়ে কিছু থাকে না। আজ কম্বল পাইছি, এখন আর এত ঠান্ডা লাগবে না।”
একজন ভাসমান বাসিন্দা সফি সরদার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, নৌকায় থাকি। শীতে খুব কষ্ট হয়। এই শীতের রাতে স্যার নিজে নৌকায় এসে কম্বল দিয়েছেন—এটা আমরা কোনোদিন ভুলব না।”
এক নারী ভাসমান বাসিন্দা চবুরা খাতুন বলেন, “বাচ্চা নিয়ে রাতে কষ্টে থাকি। শীতের সময় আল্লাহই জানে কেমন কষ্ট হয়। আজ কম্বল পাইছি, মনে অনেক শান্তি লাগতেছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “শীত মৌসুমে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। যারা নৌকায় বা নদীর পাড়ে বসবাস করেন, তাদের কষ্ট অনেক বেশি। এই সহায়তা কার্যক্রম আমাদের অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জানান, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শুধু ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানবিক দায়িত্ববোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
এনআই