রাজশাহীর পুঠিয়ায় দুটি হাটে জনসাধারণের কেনাবেচার জন্য সরকারি দুটি নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন এখনো হাটে কেনাবেচার জন্য এসব ভবন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়নি। ফলে বর্তমানে ভবন দুটি গণশৌচাগার এবং মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুঠিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর রাজশাহী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের সাধনপুর ও কার্তিকপাড়া—এই দুটি হাটে উন্নয়ন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ২০১৮–১৯ ও ২০১৯–২০২০ অর্থবছরে দুটি দুইতলা বিশিষ্ট নতুন মার্কেট ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। কার্তিকপাড়া হাটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা এবং সাধনপুর হাটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এদিকে ভূমি মন্ত্রণালয় গত ৬ অক্টোবর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে হাটবাজার ব্যবস্থাপনা বিধিমালা–২০২৫ অনুযায়ী অবিলম্বে হাটবাজার ইজারা দেওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সারা দেশেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জনসাধারণ উন্মুক্তভাবে হাটের কাজে এসব ভবন ব্যবহার করতে পারছে না।
হাট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের বেলায় এলাকার মানুষ ভবন দুটি গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করছেন। আর রাত হলেই ভবনগুলো অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়।
কার্তিকপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ আলিম প্রামাণিক বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে ইউএনওকে বলেছি, বাজারের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের মাঝে ঘরগুলো বরাদ্দ দিলে বাজারের উন্নয়ন হতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভবনের ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে যে দুটি হাটের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলো কোন প্রক্রিয়ায় হাটবাজার সংশ্লিষ্টদের মাঝে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে ভবন দুটি যেন প্রান্তিক সাধারণ মানুষের উপকারে আসে, সে বিষয়ে সুষ্ঠুভাবে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
এনআই