মাদক উদ্ধার অভিযানে টাপেনডাটল ট্যাবলেট উদ্ধারের পর জব্দ তালিকায় কম দেখানোর অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মল্লিকাদহ সরকারপাড়া এলাকায়। অভিযানে প্রায় দুই হাজার পিস টাপেনডাটল ট্যাবলেট উদ্ধারের পর জব্দ তালিকায় মাত্র আড়াই শ পিস দেখানোর অভিযোগ উঠে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের একটি দল অভিযান চালিয়ে টাপেনডাটল উদ্ধারের ঘটনায় আমেনা বেগম নামের এক গৃহিণীকে গ্রেপ্তার করে। পরে দেবীগঞ্জ থানায় আমেনা বেগম ও তার স্বামী মনোয়ার হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।
অভিযানের পর থেকেই স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, সেদিন আড়াই শ নয়, বরং প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার পিস টাপেনডাটল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে কৌশলে জব্দ তালিকায় আড়াই শ পিস দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, মামলার এজাহারে ট্যাবলেট উদ্ধারের স্থান নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পাশেই ক্লাবগঞ্জ বাজার থাকায় বাজারের বহু ব্যবসায়ীও সেখানে ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে আমেনা বেগমের বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালানো হলেও কিছু পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পেছনে মাটি খুঁড়ে একটি শপিং ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় টাপেনডাটল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অথচ মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাড়ির একটি ঘরে রাখা কাঠের বাক্সের ভেতরে কাপড়ের মধ্যে থাকা শপিং ব্যাগ থেকে ২৫টি ব্লিস্টার স্ট্রিপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ১০টি করে ট্যাবলেট ছিল।
জব্দ তালিকায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষরকারী নূরনবী ও উত্তম কুমার রায়ের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। তারা জানান, বাড়ির ভেতরে তল্লাশি করে কিছু না পাওয়ার পর মাটি খুঁড়ে ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ব্যাগের ভেতরে থাকা সব ট্যাবলেট তাদের সামনে গণনা করা হয়নি। কয়েকটি স্ট্রিপ দেখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
নূরনবী জানান, তিনি লেখাপড়া জানেন না, বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। উত্তম কুমার রায় জানান, তিনি সব ট্যাবলেট গণনার কথা বললেও তা করা হয়নি। তার ধারণা, ব্যাগে ট্যাবলেটের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।
ক্লাবগঞ্জ বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, ‘ব্যাগে থাকা ট্যাবলেটের পরিমাণ দেখে দেড় থেকে দুই হাজার পিস হওয়ার কথা। তবে গণনা না করেই জব্দ তালিকা করা হয়।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ ও ডেকোরেশন ব্যবসায়ী রাসেলও একই অভিযোগ করেন। তাদের ভাষ্য, ব্যাগের অন্তত অর্ধেক অংশ ট্যাবলেটে ভরা ছিল, কিন্তু সামনে মাত্র দুই-তিনটি স্ট্রিপ দেখানো হয়।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ জেলা কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ‘উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবেন।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাহুল সেন বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মাদক সবার সামনে গুনে জব্দ করার কথা। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ ছাড়া এসব বিষয় আমলে নেওয়া যায় না। তবে যেহেতু বিষয়টি শুনেছি, খোঁজখবর নেওয়া হবে।’
ইখা