রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই শুল্ক সিদ্ধান্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ওপর খুব একটা সন্তুষ্ট নন। এমনকি মোদি তাকে ‘স্যার’ ডেকেছিলেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
তিনি জানান, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতে মোদি তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চান। সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মোদি তাকে অনুরোধ করেছিলেন সাক্ষাতের জন্য এবং দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভালো সম্পর্ক থাকলেও শুল্ক ইস্যুতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্বস্তিতে নেই।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার কারণে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহুবার ভারতকে এই তেল আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে, যদিও তা পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আরও বলেন, ভারতীয় পক্ষ তাকে জানিয়েছে যে তারা দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচে যুদ্ধহেলিকপ্টার সরবরাহের অপেক্ষায় রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে এবং ভারত ইতোমধ্যে ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার অর্ডার দিয়েছে। তার মতে, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জোরদার হলেও ভারত জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। এই অবস্থানকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
সূত্র : পিটিআই
এমআর-২