কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি এলাকা সংলগ্ন একটি বাগান থেকে একদিন আগে অপহৃত এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত যুবক টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তর্গত কম্বোনিয়া এলাকার বাসিন্দা রমজান আলীর পুত্র জাহেদ হোসেন (২২)।
স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, নিহত জাহেদ একজন প্রবাসী ছিলেন। তিনি গত দুই মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে এসেছিলেন।
তারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে আরও জানান, ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে সশস্ত্র একদল সন্ত্রাসী তাকে ঘর থেকে ডেকে এনে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
অবশেষে ৭ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে একদল কাঠুরিয়া পাহাড়ে গাছ কাটতে যাওয়ার পথে স্থানীয় জনৈক নুরুর মালিকানাধীন একটি বাগানে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে মৃতদেহটি শনাক্ত করে নিহত যুবকের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়।
স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি প্রবাসী জাহেদের বলে নিশ্চিত হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সময়ের কণ্ঠস্বরকে প্রবাসী জাহেদের মৃত্যুর ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। কেউ বলেন, অপহরণের পর দাবিকৃত মুক্তিপণ না পাওয়ায় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। আবার কেউ বলেন, বসত-ভিটার সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
এদিকে স্থানীয়দের সহায়তায় সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আব্দুস সালাম, আব্দুল হাকিমের পুত্র গুরা মিয়া এবং আব্দু শুকুরের পুত্র শাহ আলম—এই তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মৃতদেহটির ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এনআই