পৌষের শেষভাগে এসে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত জনজীবন। চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলাও কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। এর মধ্যেও ক্লান্তি নেই উপজেলার কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই মাঠে নামছেন তারা। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সরিষা, ভুট্টা, আলু, গম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচসহ নানা রবিশস্য। কোথাও কোথাও ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। তাইতো শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করেই জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করার চিত্র চোখে পড়ছে পুরো উপজেলাজুড়েই।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকালের তীব্র শীতের মধ্যেই সাধ্যমতো গরম পোশাক পরে কুয়াশা ঢাকা মাঠে দল বেঁধে কাজে ব্যস্ত কৃষকেরা। বিরুপ আবহাওয়ার দাপটেও ফসলের মায়ায় মাঠে কাজ করছেন তারা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহের কারণে উপজেলায় রবি ফসল, বোরো ধানের বীজতলা এবং মৌচাষিদের মধু সংগ্রহে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ও বোরো ধানের বীজতলা রয়েছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় শীতকালীন বিভিন্ন ফসল ভালো হলেও বোরো বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি হালকা সেচ দিচ্ছেন কৃষকেরা। আবার কেউ কেউ করছেন পুষ্টি উপাদান ও কীটনাশক স্প্রে। প্রতিকূলতা জয় করে জীবিকার সংগ্রামে অবিচল থাকা কৃষক ও কৃষি শ্রমিকেরা এখনো গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণশক্তি হয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলার উত্তর মেন্দা গ্রামের কৃষক নকিবুল ইসলাম বলেন, হাড়কাঁপানো শীত আর কুয়াশাযুক্ত মাঠে কাজ করতে কিছুটা বেশি টাকা নিচ্ছেন কৃষিশ্রমিকেরা। সরিষার ভালো ফলনের আশায় শীত ও উৎপাদন খরচ উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম করছি আমরা। ঠান্ডার মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন জাহান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় কৃষকদের ফসল সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
এসআর