এইমাত্র
  • আকুর দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩২ বিলিয়নের ওপরে
  • খালেদা জিয়ার নামে যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তার নামকরণ
  • কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়াগামী তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা
  • যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকে ঋণ দিচ্ছে, আবার রাশিয়ার খরচও জোগাচ্ছে ইইউ
  • তীব্র উত্তেজনার মাঝেই ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পালিয়েছেন
  • অবশেষে বিসিবির মেইলের জবাব দিয়েছে আইসিসি, যা লেখা আছে
  • সময়ের কণ্ঠস্বরের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জাহিদ রিপন আর নেই
  • 'জুলাই বার্তাবীর' সম্মাননা পেলেন সময়ের কণ্ঠস্বরের সাবেক প্রতিবেদক জুনাইদ আল হাবিব
  • টানা হারে নোয়াখালীর সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ সৌম্যের
  • পে-স্কেল নিয়ে সবশেষ যা জানা গেল
  • আজ শুক্রবার, ২৬ পৌষ, ১৪৩২ | ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    রাজনীতি

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে কঠোর বিএনপি, মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বহিস্কার

    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম

    বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে কঠোর বিএনপি, মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বহিস্কার

    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ এএম

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ ও বিভক্তি লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় মনোনয়নবঞ্চিতদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তালিকা ঘোষণার পর দলের ভেতর অসন্তোষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। যদিও কেন্দ্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্ব। এরই মধ্যে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোট এবং ধানের শীষের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় ৯ জনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

    জানা গেছে, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রথমত বুঝিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করানো হবে। যদি সেটি না হয় তা হলে বহিষ্কারের পথ বেছে নেওয়া হবে। তবে বিএনপির শরিক দলগুলো বলেছে, কেবল বহিষ্কার নয়, মনোনীত প্রার্থীর বাইরে জনগণের কাছে ‘বিএনপির নেতা’ হিসেবে পরিচিত, এমন কাউকে মাঠে রাখা যাবে না। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও শরিকদের তরফ থেকে এই বার্তা দেয়া হয়েছে।

    এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে একাধিক বিএনপি নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। যে কারণে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে তারা প্রার্থী হয়েছেন। দলে তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। দুর্দিনে নেতাকর্মী-সমর্থকদের পাশে থেকেছেন। হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সে বিবেচনায় দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে না বলেও আশা করেন এসব নেতা।

    আবার বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জানান, দলীয় শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত চোখের জলে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। তবে তার আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তারা দেখা করে কিছু কথা বলতে চান। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে নির্দেশ দেবেন, তা তারা মাথা পেতে মেনে নেবেন।

    দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন-জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নিরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ।

    এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের বাইরে যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চায়, দল নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের সব মনোনয়ন প্রক্রিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে, তার আগ পর্যন্ত আমরা দেখব। এর পর যদি কেউ থাকে, তাদের ব্যাপারে দল তখন সিদ্ধান্ত নেবে। একেবারে কঠিন সিদ্ধান্ত খুব সহজে তো আমরা নিতে পারি না, বিএনপি গণতান্ত্রিক একটা দল।’

    দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে আমরা কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছি, যদিও ওই আসনগুলো বিএনপির জন্য একবারে বিজয়ী হওয়ার মতো আসন। এখনও যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে, সেসব জায়গায় ধানের শীষও আছে। তাদেরকে আমরা আগামী ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখব, তাদের বোঝাব। তার পরেও তারা যদি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে, তখন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

    নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে পাঁচটি (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অংশ মিলিয়ে), গণতন্ত্র মঞ্চকে তিনটি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটকে একটি, গণঅধিকার পরিষদকে একটি আসন ছেড়েছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করবে। আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবে। সমঝোতা অনুযায়ী, বিএনপি সেখানে তাদের দলীয় প্রার্থী দেবে না। এ ছাড়া বিজয় নিশ্চিতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দু-তিনজন নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন।

    সমঝোতা অনুযায়ী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২; গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬; নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২; গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩; জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫, সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নীলফামারী-১ এবং কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীকে ভোট করছেন। এ ছাড়া ১২ দলীয় জোটভুক্ত ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্য দিকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪, এলডিপির রেদোয়ান আহমদ কুমিল্লা-৭, বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ-৫, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ থেকে ধানের শীষে ভোট করবেন। এ ছাড়া বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ থেকে নির্বাচন করবেন।

    নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। তবে দেখা গেছে ৬০টিরও বেশি আসনে দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন শতাধিক প্রার্থী।

    মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তির তারিখ ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…