স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আনসার ও ভিডিপি কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয় এবং কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষকও নয়। তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত রাষ্ট্রীয় কর্মচারী, যাদের মূল দায়িত্ব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমির ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে সমাপনি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে দুর্বল করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে দেয়।
নবীন আনসার সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাস, সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, আইনের শাসন রক্ষা করতে হবে এবং দুর্নীতি ও পক্ষপাত থেকে দূরে থাকতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, কোনো বেআইনি আদেশ, স্বার্থান্বেষী এজেন্ডা কিংবা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে যেন কোনো সদস্য জড়িত না হন। সাহস শুধু বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, অন্যায় আদেশ প্রত্যাখ্যান করা এবং মজলুমের পক্ষে কাজ করাই প্রকৃত সাহস। সততা, নৈতিকতা ও বিবেকই হবে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতে ১৩ জন করে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী, ৬ জন অস্ত্রবিহীন পুরুষ এবং ৪ জন অস্ত্রবিহীন নারী সদস্যা থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে অস্ত্রধারী সদস্যদের একজন নির্বাচনকালীন প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সারাদেশে ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি টিমে ১০ জন করে মোট ১১ হাজার ৯১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, যা নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইখা