জেদ্দায় রাতটা শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনায় ভরা। কেননা স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।
এদিন ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি বার্সেলোনা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুই গোল হজম করতে হয় হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। যদিও এর মাঝে অভিজ্ঞ লেভানডভস্কির গোলে সমতায় ফেরে কাতালানরা। ২–২ গোলে বিরতিতে যাওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য যেন আবার নতুন করে লেখা শুরু হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকেই সমানতালে এগোতে থাকে দু’দল। তবে শেষ হাসি হেসেছে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনায়। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে রাফিনিহার নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।
এরপর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। একটা সময়ে মনে হচ্ছিল, যোগ করা সময়ে আবারও চমক দেখাতে পারে রিয়াল। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে দেয় বার্সার রক্ষণ আর ডাগআউটে থাকা হ্যান্সি ফ্লিকের ঠান্ডা মাথার কৌশল। শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলে জিতে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা ঘরে তোলে বার্সেলোনা।
এটি ছিল হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিং ক্যারিয়ারের অষ্টম ফাইনাল। এই ৮ ফাইনালের কোনোটিতেই হার দেখতে হয়নি তার। এমন ধারাবাহিকতা আধুনিক ফুটবলে বিরলই বলা যায়।
বার্সেলোনার ডাগ আউটে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল হ্যান্সি ফ্লিকের তৃতীয় ফাইনাল। আর এই তিনবারই তিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদকে। আগের মৌসুমে সুপার কাপ ও কোপা দেল রে জয়ের পর এবার যোগ হলো আরেকটি সুপার কাপ।
এর আগে বায়ার্ন মিউনিখের দায়িত্বে থাকাকালীনও ফ্লিক ফাইনাল মানেই সাফল্যের প্রতীক ছিলেন। ২০২০ সালে জার্মান কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও জার্মান সুপার কাপ—চারটি বড় শিরোপাই উঠেছিল তার হাতে। এই ধারাবাহিক অর্জনই যেন বলে দেয়, ফ্লিকের কাছে ফাইনাল মানে চাপ নয়, বরং সুযোগ।
আরডি