এইমাত্র
  • বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের খবর জানে না বিসিসিআই
  • শেরপুরে ১ সপ্তাহে ৮ টি গরু চুরি
  • হ্যাট্রিক হার দিয়ে সিলেট পর্ব শেষ করল রংপুর
  • জাজিরার বিলাসপুরে ৪৫ ককটেল উদ্ধার, আটক ৪
  • ঠাকুরগাঁওয়ে বেদখল হওয়া জমি ৫০ বছর পর ফেরত পেলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
  • নোয়াখালীতে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ
  • ‘অধিকাল ভাতা’ পুনর্বহালের দাবিতে বেনাপোল বন্দরে অবস্থান কর্মসূচি
  • মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ দল গঠনের সুপারিশ আইসিসির
  • গণভোটের প্রচারণায় ব্যানার টানানো হলো সচিবালয়ে
  • ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার একজন
  • আজ সোমবার, ২৯ পৌষ, ১৪৩২ | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
    কৃষি ও প্রকৃতি

    শার্শায় ঘন কুয়াশায় বীজতলার ক্ষতি, বিপাকে বোরো চাষিরা

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

    শার্শায় ঘন কুয়াশায় বীজতলার ক্ষতি, বিপাকে বোরো চাষিরা

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

    যশোরের শার্শায় কোল্ড ইনজুরির কারণে বোরো বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। ফলে বোরো চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। তারা বীজতলায় ছাই ছিটিয়ে, ওষুধ প্রয়োগ করে এবং পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে চারা রক্ষার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে বোরোসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি পৌষ মাসের শুরু থেকেই এ এলাকায় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

    চলতি মৌসুমে শার্শায় ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৪০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমিতে এখনো চারা দেওয়া যায়নি। এরই মধ্যে যেটুকু বীজতলা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশ শৈত্যপ্রবাহের কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি আরও এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে চারাগুলো রোপণের উপযোগী থাকবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    যশোর বিমানবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ঘাঁটিস্থ আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই যশোরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। যশোরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর নীচে অবস্থান করছে। গত ১০ দিনের মধ্যে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দিন যশোরে রেকর্ড হয়েছে। যশোরের শার্শায় এখন প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই কুয়াশার জাল ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। এর ফলে কৃষি সেক্টর ঝুঁঁকির মধ্যে পড়েছে। বোরো ধানের বীজতলা চরম ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে।

    কৃষকরা জানান, ইতোমধ্যেই বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চারা হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে যারা বোরো ধানের বীজতলায় ধান ফেলেছিলেন, তাদের চারা অঙ্কুরোদগম হয়নি। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে চারাগুলো হলুদাভ হয়ে মরে যাচ্ছে, যা ‘কোল্ড ইনজুরি’ নামে পরিচিত। এতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ নষ্ট চারা পুনরায় কিনতে হতে পারে। বাড়তি যতœ নেওয়ার পরও চারাগুলোকে হলদে হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারা থেকে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, নিয়মিত সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    শার্শার শ্যামলাগাছী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘গত কয়েকদিনের কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে উঠেছে। রাতে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছি। শীত ও ঘন কুয়াশা আরও বাড়লে বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।’

    অগ্রভুলোট গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। শীত ও কুয়াশা যদি অব্যাহত থাকে, বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়বে।’

    বেনাপোলের নারায়নপুর গ্রামের কৃষক জাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিঘা জমি প্রস্তুুত করেছি, কিন্তু হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারা রোপণ এখনও করতে পারছি না।’

    নাভারনের বুরুজবাগান গ্রামের কৃষক ইয়ানুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর ৬-৮ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করি। এবারও সমপরিমাণ জমিতে চাষ করবো। তবে চারা নিয়ে চিন্তাই বেশি। চারা রোপণের উপযোগী হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না।’

    শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘ব্রি ধান-৫০, ৬৩, ৮৮, ১০০, ১০২, ১০৪, বিনাধান-২৫, রড মিনিকেট ও শুভলতা জাতের চাষ বেশি হয়। ধান রোপণের জন্য চারা প্রস্তুুত। কিছু এলাকায় শীত ও কুয়াশায় চারার ক্ষতি হয়েছে, তবে পুরো নষ্ট হয়নি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর। বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ১৭৫ দশমিক ৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত রোপন করা হয়েছে ১৪০ হেক্টর জমিতে। এখনো রোপন চলমান রয়েছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে কিছু বীজতলার চারা হলুদ হয়েছে, তবে পুরো নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…